Global Header Bottom
ব্র্যান্ড প্রফেশনাল হতে হলে কেমন যোগ্যতা প্রয়োজন

ব্র্যান্ড প্রফেশনাল হতে হলে কেমন যোগ্যতা প্রয়োজন

পর্ব- ১

ব্র্যান্ড প্রফেশনাল হতে হলে কেমন যোগ্যতা প্রয়োজন

ব্র্যান্ড প্রফেশনাল হতে হলে কেমন যোগ্যতা প্রয়োজন, প্রশ্নটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর উত্তর এইচআর প্রফেশনাল, উদ্যোক্তা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর টপ ম্যানেজমেন্টের জানা প্রয়োজন। এছাড়া যাঁরা ব্র্যান্ড প্রফেশনাল হতে চায় তাঁদের প্রত্যেকের এই বিষয়টি সম্পর্কে স্বুছ ধারণা থাকা প্রয়োজন। তাহলে প্রত্যেকের জন্যই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সহজ হবে। নিয়োগকর্তা সহজে তাঁর যোগ্যকর্মী খুঁজে পাবেন। আবার যাঁরা এই প্রফেশনে আসতে ইুছুক তাঁরাও প্রয়োজনীয় প্র¯‘তি নিতে পারবেন। এই প্রফেশনে আসার আগে একজন মানুষের অনেকগুলো প্র¯‘তি দরকার। অনেকের কাছে অনেক সময় এই জগতটিকে গ্লামারাস মনে হতে পারে। এই কাজটিকে যতটা সহজ মনে হয় আসলে ততটা সহজ নয়।

এটা অবশ্য আমার ধারণা, আমার অভিমত। অনেকে অনেক কিছু বলতেও পারেন বা ভাবতেও পারেন। অনেকের কাছে সহজ লাগতেও পারে। কিন্তু বাস্তবিক অর্থে আবারো যে শব্দটা আমি বলছি সেটা হলো এটাকে যতটা সহজ মনে হয় ঠিক ততটাই কঠিন। ততটা কঠিন তখন হবে না যখন আমি মানসিকভাবে ওই প্র¯‘তিটা নিয়ে এই কাজ করতে আসবো। আমার মধ্যে এই কাজের জন্য যে স্কিল বা দক্ষতা প্রয়োজন সেটা থাকতে হবে। এই কাজ করার জন্য যে ধরনের পড়াশোনা প্রয়োজন সেটা আমার মধ্যে থাকতে হবে। ওই জ্ঞানটা থাকতে হবে। তখন আমি খুব সহজেই এই প্রফেশনটাকে নিতে পারব। এই প্রফেশনে আমি ধাপে ধাপে একটি সাফল্যের পর্যায়ে যেতে পারব।

একজন ব্র্যান্ড প্রফেশনাল হতে হলে কমপক্ষে তিনটি জায়গায় গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। প্রথমত, সঠিক পড়াশোনাটা জানা দরকার। এটা হতে পারে বিবিএ, এমবিএ বা সুনির্দিষ্টভাবে মার্কেটিং এ পড়ালেখা হতে পারে। কিংবা অন্য যে বিষয় নিয়েই পড়ুক না কেন যদি এই প্রফেশনে আসতে চায় তাঁকে অবশ্যই ব্র্যান্ড মার্কেটিং সম্পর্কে পর্যাপ্ত পড়াশোনা করে আসতে হবে। দেশ-বিদেশ সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। ব্র্যান্ডে যাঁরা কাজ করেন তাঁদের মাইন্ডসেট যদি ওপেন মাইন্ডেড না হয় তাহলে তাঁদের পক্ষে বৈচিত্র্য বজায় রেখে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এটা অবশ্য আমার অভিমত। এক্ষেত্রে কারও কারও দ্বিমত থাকতে পারে বা অন্যরকম চিন্তাভাবনা থাকতে পারে। ব্র্যান্ড প্রফেশনাল হতে গেলে সেখানে কেউ যদি একটা টানেল ফিলিংস নিয়ে কাজ করেন তাহলে তাঁর পক্ষে ব্র্যান্ডটিকে ঠিকমতো দাঁড় করানো সম্ভব হয় না।

এ কারণে মাইন্ডসেট ব্রড এবং ওপেন মাইন্ডেড হতে হবে। দেশি-বিদেশি কালচারাল বিষয়গুলো সম্পর্কে স্বুছ ধারণা থাকা দরকার। আমেরিকা বা সিঙ্গাপুরে কি হুেছ আর সেটাই যদি বাংলাদেশে প্রয়োগ করার চেষ্টা করেন অথচ বাংলাদেশের অডিয়েন্স, বাংলাদেশের টার্গেট মার্কেট, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থাা সেটাকে সাপোর্ট করে কিনা, সমর্থন করে কিনা সেটা হয়তো বিবেচনা করে দেখছেন না, তখন দেখা যাবে আমাদের দেশের কালচারের সাথে সেটা লিংক করতে পারছে না। তখন সেটাকে অনেকটা টিপিক্যালি লিংক করানোর চেষ্টা করা হয়। যদি এটা কেউ করার চেষ্টা করেন তাহলে ব্র্যান্ডের বিপর্যয় হবে। যে কোম্পানিতেই তিনি চাকরি করুক না কেন সেখানে তাঁর জন্য এটা বিপর্যয় বয়ে আনবে। এ ধরনের কাজগুলো কপি পেস্ট করে করা হয়।

ব্র্যান্ড কখনো কপি করে হয় না। এটা সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র একটি বিষয়। এখানে ভিন্নতা থাকতে হয়। স্বকীয়তা থাকতে হয়। অনন্য বৈশিষ্ট্য থাকতে হয়। যদি কেউ ব্র্যান্ড হতে চায় তাহলে তাঁকে অবশ্যই অনন্য, স্বকীয় হতে হবে। এটা সব সময় আমাদের বিবেচনায় থাকতে হবে। যিনি প্রফেশনাল তাঁর কাজের ধরন, কাজের স্টাইল ভিন্ন হবে, স্বতন্ত্র হবে। তিনি কাউকে অনুকরণ করে কাজ করেন না। যদি তিনি নিজের কাজের মধ্যে স্বকীয়তা, অনন্যতা বজায় রাখতে না পারেন তাহলে তিনি কেবল অন্যদের কপি করবেন, অনুসরণ করবেন। তখন সেটা ব্র্যান্ড হবেনা, ফলোয়ার হবে।

আমি তখন ব্র্যান্ড লিডার বা লিডিং পজিশনে যাওয়ার সুযোগ পাবো না। ফলোয়ার হওয়াটা খারাপ কিছু না। আমার স্ট্র্যাটেজি যদি থাকে আমি ফলোয়ার হবো তাহলে সেটা আমি হতেই পারি। কিন্তু ফলোয়ার হলে আমার মধ্যে যে স্বকীয়তা ধারণ করতে চাই সেটা কখনো হবে না। আমি ব্রড মার্কেটে না পারি, আমি যে নিস মার্কেটে নেত...ত্ব দেব সেটাও হবে না। আমি বিগ মার্কেটে নেত...ত্ব দেব সেই ভাবনা থেকে সরে আসতে হবে। আমাকে সব সময় নিস মার্কেট নিয়েই ভাবতে হবে। তখন কোম্পানির ভিশন, মিশন আলাদা হবে। কখনো লিডিং পজিশনের ভিশন, মিশন রাখা যাবে না।

যাঁরা ক্যারিয়ারের শুরুতে ব্র্যান্ড প্রফেশনে আসতে চান, গ্র্যাজুয়েশন পর্যায়ে পড়াশোনা করছেন, তাঁরা খুব ভালো করে সংস্ক...তিকে শেখেন। সংস্ক...তিকে আত্মস্ত করার চেষ্টা করুন। সংস্ক...তির মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে ভাবুন। দেশের সংস্ক...তিকে খুব ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করুন। দেশের গান-বাজনা থেকে শুরু করে উপন্যাস, গল্প, কবিতা, আর্ট, আর্ট বলতে পেইন্টিং থেকে শুরু করে প্রিন্টিং সবকিছু সম্পর্কে ভালোভাবে জানুন। নিউজ পেপারে কিভাবে কাজ হয়, টিভিতে কিভাবে কাজ হয়, অন্যান্য মিডিয়ায় কিভাবে কাজ হয় এই বিষয়গুলো সম্পর্কে জানা দরকার। বিভিন্ন টেকনিক্যাল বিষয়গুলো সম্পর্কে জ্ঞান রাখা প্রয়োজন।

এগুলো জেনে যদি আপনি বিবিএ, এমবিএ করে ব্র্যান্ড প্রফেশনাল হতে পারেন তাহলে আপনার কাজ অনেক সহজ মনে হবে। অন্যথায় শুধু বই পড়ে একটি ডিগ্রি নিয়ে চেয়ারে বসে পড়লেন আর ভাবলেন আপনি ব্র্যান্ড ম্যানেজার হয়ে গেছেন তাহলে তখন দিল্লিকে অনেকদূর মনে হবে।

(চলবে)

আফতাব মাহমুদ খুরশিদ কর্পোরেট জগতে অতি পরিচিত নাম| অনেকের কাছে তিনি পরিচিত ব্র্যান্ড ক্যাটালিস্ট হিসেবে| ২০০৭ সালে তিনি পেয়েছেন ব্র্যান্ড লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড| ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং ডিপার্টমেন্ট থেকে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি নিয়েছেন| অতপর যুক্তরাজ্য থেকে মার্কেটিংয়ে এমবিএ| দেশের বিভিন্ন বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান ছাড়াও বহুজাতিক কোম্পানিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর| স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড, সিমেন্স, এসিআই, বাংলালায়ন, রেডিও টুডে, প্রাইড, ট্রাস্ট ব্যাংক, বেঙ্গল গ্রুপ, অ্যাপোলো হাসপাতাল, এসএসজি, সিটি ব্যাংকসহ আরও বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে তিনি কাজ করেছেন| এছাড়া দেশে-বিদেশে ব্র্যান্ড সম্পর্কিত বিভিন্ন কনফারেন্সে যোগদান করেছেন, বক্তব্য দিয়েছেন|

শেয়ার করুন:

এই ক্যাটাগরির আরও নিবন্ধ

Global Before Footer